Facebook Twitter Instagram YouTube

পরীক্ষা জালিয়াতিতে ভারতে ৪৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত ও বিশেষ আদালত গঠন


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ /
পরীক্ষা জালিয়াতিতে ভারতে ৪৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত ও বিশেষ আদালত গঠন

ভারতে পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁস রোধে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। দেশটির ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা বিতর্ককে কেন্দ্র করে এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ষষ্ঠবারের মতো সরাসরি নির্বাহী হস্তক্ষেপ। এ প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।"

প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতিতে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এর অধীনে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে একটি বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সব মামলা এই বিশেষ আদালতে পাঠানো হবে। দিল্লি হাইকোর্টের বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর আদালতের মধ্যস্থতা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা বিচারক অনু গ্রোভার বালিগাকে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে বিশেষ বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, "আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সরকার নির্দেশ দিয়েছে।" এছাড়া পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এর সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশোধনী বিলটি শনিবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

এনটিএতে শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ পাল গাঙ্গওয়ারকে। এছাড়া স্কুল শিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব করা হয়েছে টি কে অনিল কুমারকে। অপরদিকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিদায়ী সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।

রাজধানী দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের মাঝেই সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সোনম ওয়াংচুক সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর আগে বিতলভাই প্যাটেল হাউসে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এক বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের (সিজেপি) উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যালোচনা করেছে। এ বিষয়ে আগামী শনিবার বিকেলের নির্ধারিত বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাহী জবাব দেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin