
খুলনার সোনাডাঙ্গায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র এবং তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র।
বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পরপরই পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখায়। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানালা দিয়ে দেখতে পান, গরম কড়াই দিয়ে মেয়েটির মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় মেয়েটি মুখ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেশীদের দাবি, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী পপি মিত্র ওই কিশোরীর ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালান। এছাড়া সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্র দম্পতি দীর্ঘদিন ধরেই ওই গৃহকর্মীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর শরীরে বেশ কিছু পুরোনো আঘাতের চিহ্নও দেখতে পেয়েছেন স্থানীয়রা।
নির্যাতনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :