
মানিকগঞ্জের ঘিওরে জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফের ১০৬তম ওরস মাহফিল উপলক্ষে ১০১ মণ চাল-ডাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে বিশাল এক তবারক রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। প্রায় ৪০ হাজার ভক্ত ও আশেকানের জন্য একসঙ্গে চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে এই তবারক রান্না করা হয়। একজন প্রধান বাবুর্চিসহ মোট ৩০ জন মিলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে এই রান্নার কাজ সম্পন্ন করেন।
প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরবারটি সাত পুরুষ ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর মাঘ মাসের ১২-১৩ তারিখ এবং ভাদ্র মাসের ১২-১৩ তারিখ—এই দুই দফায় ১০১ মণ খিচুড়ি রান্নার প্রথা রয়েছে। এবার রান্নায় ৩৬ মণ চাল, ২০ মণ সবজি, ছয় মণ ডাল, আট মণ ঘি, দুই বস্তা লবণ ও প্রয়োজনীয় মসলা ব্যবহার করা হয়েছে। রান্নার সুবিধার জন্য পাতিলের মাঝখানে মোটরের সাহায্যে উপকরণ মেশানোর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধান বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম জানান, পীর সাহেবের নির্দেশনায় তিনি এই রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের মতে, এত বিপুল পরিমাণ চাল ও ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্নার এই পাতিলটি দেশের সবচেয়ে বড় রান্নার ড্যাগ। দরবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর হযরত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আল চিশতি জানান, প্রায় নয় বছর আগে নাটোরে এক ভক্তের বাড়িতে থাকাকালীন স্বপ্নে তিনি এই পাতিল তৈরির ধারণা পান। ভারতের আজমীর শরিফের খাদেমের ফর্মুলা ও অনুমতি নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে দুই মিস্ত্রি দিয়ে সাত লাখ টাকা ব্যয়ে স্টেইনলেস স্টিলের এই পাতিলটি তৈরি করা হয়। এরপর ১২ হাজার ইট দিয়ে এর জন্য একটি বিশাল চুলা নির্মাণ করা হয়, যার এক পাশে সুড়ঙ্গ দিয়ে জ্বালানি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজশাহী, রংপুর, চিলমারী, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঢাকা, পাবনা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই ওরসে অংশ নেন। মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও এই আয়োজনে অংশ নিতে আসেন। অনেক ভক্তের বিশ্বাস, এই তবারক খেলে রোগমুক্তি ও মনের আশা পূরণ হয়, এমনকি সন্তান লাভ করেছেন এমন দাবিও করেছেন অনেক নারী ভক্ত। এই আয়োজনের পুরো খরচ মূলত ভক্তরাই বহন করেন এবং জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফের এই আয়োজন এখন একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :