Facebook Twitter Instagram YouTube

দুই বছরেও শনাক্ত হয়নি নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদের হত্যাকারী


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ /
দুই বছরেও শনাক্ত হয়নি নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদের হত্যাকারী

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নরসিংদীতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ১৫ বছর বয়সি তাহমিদ ভূঁইয়া। জুলাই অভ্যুত্থানে নরসিংদীর প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত এই কিশোরের মৃত্যুর দুই বছর পার হয়ে গেলেও, তার বুকে গুলি করা ব্যক্তিকে আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার দিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর জেলখানা মোড়ে জড়ো হয়েছিল। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল সেখানে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নির্বিচারে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা পুনরায় জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং সেই সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাহমিদ গুলিবিদ্ধ হয়।

নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর নন্দীপাড়া এলাকার পল্লি চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের ছেলে তাহমিদ শহরের নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারের সবার অগোচরে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তার বাবা রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থানকালে পুলিশ গুলি চালায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সবার সামনে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ দুই বছর পার হলেও হত্যাকারীর বিচার দূরের কথা, কে গুলি করেছে সেটিও জানা যায়নি। ঘটনার রাতে পুলিশ প্রশাসনের চাপে চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করতে হয়েছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস মালিহা জানান, পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণে তাহমিদসহ আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, বিকেল ৪টার দিকে তাহমিদকে হাসপাতালে আনা হয় এবং তার বুক ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল। সেদিন ইমন হোসেন ও অনিকসহ আরও কয়েকজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছিলেন।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাহমিদকে হারিয়ে তার পরিবার এখনো শোকাচ্ছন্ন, বিশেষ করে তার একমাত্র ছোট বোন লিনাত ভূঁইয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা পরিচালনা করছে, তবে তাহমিদের বুকে প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১: ২৪আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১: ৪১

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে তাহমিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুক ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল। বিকেল ৪টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেই দিনের দৃশ্য এখনো মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh