Facebook Twitter Instagram YouTube

শাবিপ্রবিতে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার মারধরের শিকার শিক্ষার্থী


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ /
শাবিপ্রবিতে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ, ছাত্রদল নেতার মারধরের শিকার শিক্ষার্থী

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করায় খাইরুল খন্দকার নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী খাইরুল সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শনিবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দোকানসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান এবং একই বর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান। ক্যাম্পাসে হাসিবুর রহমান শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানের এবং তারেক রহমান সাধারণ সম্পাদক নাড়ম সরকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ভুক্তভোগী খাইরুল জানান, ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্যানটিনের খাবারের বাজে অবস্থা নিয়ে তিনি হল প্রাধ্যক্ষকে মেনশন করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর জের ধরে পরের দিন শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারেক ও হাসিবুর তাঁকে প্রাধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। শনিবার রাতে খাবার খেতে গেলে হাসিবুর তাঁকে ডেকে পাঠান এবং কেন ক্ষমা চাননি তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারেক রহমান হুমকি দিয়ে বলেন, “এই ব্যাটা তুই আমারে চিনস? থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দিব।” এরপর দুজন মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন, এতে তিনি মাথা, বুক ও হাতে গুরুতর আঘাত পান। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত তারেক রহমান দাবি করেন, খাবারের বিষয়ে অভিযোগ তোলায় প্রাধ্যক্ষ মন খারাপ করেছিলেন, তাই তাঁরা খাইরুলকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীটি বাজে আচরণ করায় পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায় এবং এতে হাসিবুরের চশমা ও ফোন ভেঙে গেছে। তবে হাসিবুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। শাখা ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামান বিষয়টিকে প্রাধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।

শাহপরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ ইফতেখার আহমদ ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, খাইরুলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি হাসিবুর ও তারেকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

এদিকে শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির কর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অতিথি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের বহিষ্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবি জানান। উপাচার্য খায়রুল ইসলাম এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এর পরের দিন ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারেক ও হাসিবুর তাঁকে প্রাধ্যক্ষের কাছে ‘স্যরি’ বলতে বলেন।

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।খায়রুল ইসলাম, উপাচার্য.শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo