Facebook Twitter Instagram YouTube

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই মুখগুলো আজ কেমন আছেন?


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ /
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই মুখগুলো আজ কেমন আছেন?

দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোচিত সেই মুখগুলোর জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কাজ করছে গভীর হতাশা। শায়লা আক্তার শশী, মো. নাসির খান, রায়হান মোল্লা, মো. নাহিদুল ইসলাম, নুসরাত জাহান, মিম আক্তার এবং লামিয়া রায়হানের মতো ব্যক্তিরা সেদিনের সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের অধিকাংশের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া বড় অর্জন হলেও রাষ্ট্র সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণহত্যার বিচার এবং দুর্নীতি দমনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনো হয়নি।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন শায়লা আক্তার শশী। চলতি মাসের ৯ তারিখ রাজধানীর আফতাবনগরে কথা হয় শায়লার সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত এবং শহীদদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। শায়লার আক্ষেপ, যে সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো তরুণরা জীবন দিয়েছেন, আজও সেই একই ব্যবস্থার মধ্যে দেশ ঘুরপাক খাচ্ছে।

আন্দোলনের সময় টিনের ঢাল হাতে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন স্যানিটারি মিস্ত্রি মো. নাসির খান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিনের তৈরি ঢাল নিয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। যদিও তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন আরও আগে, জুলাইয়ের ২২ তারিখে। মতিঝিল এলাকায় চলতি মাসের ৯ তারিখ নাসিরের সঙ্গে কথা হয়। ছররা গুলিতে আহত নাসির এখন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

একই সুর শোনা যায় রায়হান মোল্লার কণ্ঠেও, যিনি রাজপথে নেমেছিলেন ১৬ জুলাই। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে অধ্যয়নরত রায়হান এখন ব্যবসা করছেন। পাশাপাশি তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে তথ্য–উপাত্ত সংরক্ষণের কাজ করছেন। ১০ জুলাই কারওয়ান বাজার এলাকায় কথা হয় রায়হানের সঙ্গে। তিনি জানান, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য, যা এখনো অর্জিত হয়নি।

আন্দোলনের সময় আটক হওয়া মো. নাহিদুল ইসলাম ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেও একটি গোষ্ঠী কুক্ষিগত করার ফলে এর মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুসরাত জাহান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো অনুপস্থিত। এছাড়া ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লামিয়া রায়হান অভিযোগ করেন, ভাইরাল ছবিগুলো বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হলেও শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে মিছিল করা মিম আক্তার বর্তমানে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে কাজ করছেন। ৩ আগস্ট ও ১৫ আগস্টের ঘটনাবলি স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর প্রত্যাশা, নির্বাচিত সরকার শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এবং চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, জুলাইয়ের এই সাত যোদ্ধা মনে করেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে যখন দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo