Facebook Twitter Instagram YouTube

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার, বহাল ৬ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ /
১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার, বহাল ৬ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর

রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশ বাহিনীর জনবল ও যানবাহনের সংকট মোকাবিলায় সরকার ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হলেও, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা আগের মতোই গানম্যান, বাসভবন নিরাপত্তা বা হাউস গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সফরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। সাধারণত একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন, যাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে। এই সদস্যদের বেতন-ভাতা এবং যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে বহন করা হয়।

যেসব জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এখনো পুলিশের বিশেষ এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ডিএমপির তথ্যমতে, রাজধানীতে বর্তমানে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। তবে এই কাজে ২ হাজার ৫৭৫ জন সদস্যের প্রয়োজন হওয়ায় প্রায় ৯০০ জনের ঘাটতি রয়েছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের স্বল্পতাও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বর্তমানে সীমিত জনবল ও যানবাহন দিয়ে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, যা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh