Facebook Twitter Instagram YouTube

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন প্রসিকিউশনের


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১২, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ /
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন প্রসিকিউশনের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে প্রসিকিউশন। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় আসামিদের দায়ী করে কোনো ধরনের অনুকম্পা ছাড়াই তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কের ষষ্ঠ দিনে আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, যার পর চিফ প্রসিকিউটর তার যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম তার যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

গত ৪ আগস্ট মামলাটিতে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিল। প্রথম দিনে গাজী এমএইচ তামিম মামলার পটভূমি তুলে ধরেন এবং পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি ফোনালাপ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার আহ্বান, সহিংসতার পরিকল্পনা এবং সশস্ত্র হামলার প্রমাণ হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে। এছাড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার সাত আসামি হলেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক। গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় এবং গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin