
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ এএম
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে ইরানের পাশে থাকার এবং দেশটিকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্যানাইজেশনের (এসসিও) দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিয়ে পুতিন এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই বক্তব্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। এমন এক সময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দিলেন, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ এক নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি রাশিয়ার মোট জিডিপির (দেশজ উৎপাদন) প্রায় ১ শতাংশের সমান।
ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং ইউক্রেনকে জবাব দিতে রাশিয়াও তাদের আক্রমণ তীব্র করেছে। নতুন প্রযুক্তির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভ এবং কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি কার্যক্রম বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। পুতিন জানান, তিনি রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে যুদ্ধের পাশাপাশি শান্তি আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
পশ্চিমাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে পুতিন বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
আপনার মতামত লিখুন :