
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিবেদনটি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। জানতে পেরেছি প্রতিবেদনটি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হয়ে যেতে পারে। যদি প্রতিবেদন পেতে মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তবে আগামীকাল শুক্রবার অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করা হবে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে উপাচার্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। উপাচার্যের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বৃহস্পতিবার রাতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের দাবির মুখে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপাচার্য জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ কাউকে সেখানে নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত মামলা করা। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবি জানান সাংবাদিকরা। উপাচার্যও এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী সরাসরি জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :