
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৫) অপহরণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচা জানান, ঘটনার রাতে কিশোরীর মা এবং দাদি চিকিৎসার প্রয়োজনে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার ছোট ভাই ও বোন ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে তারা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে সশস্ত্র দলটি তাদের হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তিন যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে মোটরসাইকেলসহ দুই অভিযুক্তকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাদের সদরপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগীর মা জানান, মেয়ের এই করুণ অবস্থা দেখে তিনি বাকরুদ্ধ। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। কিশোরীর ছোট বোনও জানালা ভেঙে দুর্বৃত্তদের ঘরে প্রবেশের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালমা জাহান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাম হাতে আঘাত, পেটে লাথির কারণে ব্যথা এবং বুক ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আটককৃতরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :