
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার আগুনে সোমবার ভোররাতেও কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। ইরানের ওপর টানা নবম রাতের মতো বড় ধরনের হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন এই আগ্রাসনের লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনাকে উল্লেখ করেছে সেন্টকম।
মার্কিন হামলার জবাবে সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ‘আকস্মিক হামলা’ চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত ‘শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ’ হিসেবে চালানো হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে ইরানের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও পরিবহন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার ভোরে কুয়েত সেনাবাহিনী জানায়, শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ বলে নাগরিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জর্ডানও রোববার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান তাদের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যে পথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।
আপনার মতামত লিখুন :