
দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই চোখে ঘুম নেমে আসে, যা স্বাভাবিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে এই সময় তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, যা দৈনন্দিন কাজের গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাঞ্চের পর রক্তে শর্করার মাত্রার দ্রুত ওঠানামা, বদহজম, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার মতো কারণগুলো এ ধরনের মাথাব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি ও হ্রাস পায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া পনির, চকোলেট, এমএসজি-যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চা-কফি কিংবা অ্যালকোহল অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উপসর্গকে উসকে দিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকাও মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১টার পরে খাবার খেলে তার আগে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বিকালে হালকা স্ন্যাকস গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজনে নুন-চিনি মিশ্রিত শরবত পান করা উপকারী। পাশাপাশি কিছুক্ষণ স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া এবং তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাথাব্যথা কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত। দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে অল্প অল্প করে নিয়মিত খাবার গ্রহণ, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম, কপালে ঠান্ডা বা হালকা গরম সেঁক অথবা আদা চা কার্যকর হতে পারে। তবে মাথাব্যথা যদি বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বমি, ঝাপসা দেখার মতো গুরুতর উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। জীবনযাত্রায় সময়মতো পরিবর্তন আনলে লাঞ্চ-পরবর্তী মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :