Facebook Twitter Instagram YouTube

পুলিশে নারী সদস্যদের নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ /
পুলিশে নারী সদস্যদের নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো নারী সদস্য নিয়োগের পর থেকে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীরা নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। একসময় কেবল সহায়ক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে নারী পুলিশ সদস্যরা বাহিনীর প্রতিটি স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। কমিউনিটিতে টহলরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা পর্যন্ত সব পর্যায়েই তাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন জানান, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নারী সদস্যরা কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই খাতে অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। তাদের অবদান ছাড়া শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩, চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, তার ১৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি দেখেছেন যে পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নারীরা উচ্চপদে আসীন হচ্ছেন, যা তরুণীদের পুলিশে যোগ দিতে উৎসাহিত করছে। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও নারী কর্মকর্তারা এগিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা পুরুষ কর্মকর্তাদের চেয়ে নারী তদন্তকারীদের কাছে নিজেদের ট্রমার কথা খোলামেলা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে দ্রুত আস্থা অর্জন ও তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের মান উন্নত হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। তারা মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, এপিবিএন, এসবি, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সংগঠনটির ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনায় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, তদন্ত দক্ষতা বাড়ানো এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজারবাগে আয়োজিত বিপিডব্লিউএনের পরামর্শ কর্মশালায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নেতৃত্বের বিকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সাইবার অপরাধ তদন্ত, মানসিক সুস্থতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তবে নারী কর্মকর্তারা মনে করেন, অপারেশনাল পুলিশিং ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে তাদের সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পথ এখনও বাকি। ভবিষ্যতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে নারী সদস্যরা পুলিশ বাহিনীতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor