
টানা বর্ষণের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে লাল সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ভারী বর্ষণের ফলে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা শশী কান্ত জানিয়েছেন, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক উত্তুরে বাতাস এবং পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
লাল সতর্কতার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্য দিল্লি, পূর্ব দিল্লি, নয়াদিল্লি, উত্তর দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, উত্তর-পশ্চিম দিল্লি, শাহদরা, দক্ষিণ দিল্লি, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি এবং পশ্চিম দিল্লি। এছাড়া এনসিআর অঞ্চলের লেনী দেহাত, হিন্ডন বায়ুসেনাঘাঁটি, ইন্দিরাপুরম, নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, মানেসর, যমুনানগর, পানীপত, গন্নৌরস, সোনিপত, রোহতক, ঝজ্জর, ফরুখনগর, সোহনা, খরখৌদা, খেকড়া ও বড়ৌত এলাকাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতাল, এমস-সংলগ্ন এলাকা, অশোক রোড, সুপ্রিম কোর্ট এলাকা, বাবা খড়গ সিংহ মার্গ, কনট প্লেস আউটার সার্কল, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, আইটিও, এরকে পুরম ও ফিরোজশাহ রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে; ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে ১৮টি বিমান বাতিল করা হয়েছে এবং ১৬৬টি বিমানের ওঠানামায় বিলম্ব হয়েছে।
প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরপ্রদেশের নয়ডা এবং হরিয়ানার গুরুগ্রামেও একই রকম বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই দুই অঞ্চলে বিভিন্ন সংস্থাকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুল ও কলেজগুলোতে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :