Facebook Twitter Instagram YouTube

নেপালে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে বন্যা থেকে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থী


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ /
নেপালে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে বন্যা থেকে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থী

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে একাধিক উৎস থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তিনি কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০-এর বেশি। রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, বন্যার খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি চারটি সতর্কবার্তা পান, যার একটিতে উল্লেখ ছিল যে উজানের বেত্রাবতী এলাকায় বন্যার পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে না সরলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত। তিনি আরও বলেন, বন্যা না এলেও বড়জোর এক দিনের ক্লাস নষ্ট হতো, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

শিক্ষার্থীরা যখন উঁচু স্থানের দিকে যাচ্ছিল, তখন শিক্ষকরা দেখতে পান বিদ্যালয়ের কাছাকাছি নদী থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে থাকা একটি হোস্টেল ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, যদি তিনি সিদ্ধান্ত নিতে আরও ১০ মিনিট দেরি করতেন, তবে হয়তো শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাকেও জীবন দিতে হতো।

১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা জানায়, বন্যার পানি আঘাত হানার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে সে ও তার বন্ধুরা নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। সে জানায়, মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে তারা প্রাণে বেঁচেছে। স্কুলের পেছনের সরু ও কাদাময় পথ দিয়ে দৌড়ে উঁচু স্থানে ওঠার পরপরই তারা চোখের সামনে পুরো বাজার এলাকা তলিয়ে যেতে দেখে।

ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা জানান, বন্যার খবর পাওয়ার পর তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও দীর্ঘ সময় ব্যর্থ হন, যা তাকে চরম আতঙ্কে ফেলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলেও ইউনিশা তিন দিন পর বাড়ি ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। তবে মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে সাবিনা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ঈশ্বর তার মেয়েকে রক্ষা করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh