
৩৯ দিনের দীর্ঘ মহোৎসব শেষে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সফল ছিল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন সবার নজর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরবর্তী পরিকল্পনার দিকে, যেখানে তিনি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভাবছেন। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিকল্পনা কি আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব?
‘যত বেশি, তত ভালো’—এই মন্ত্রে বিশ্বাসী ইনফান্তিনো ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে ৪৮ দলে উন্নীত করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। তাঁর মতে, ছোট দেশগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির কোনো আগ্রহ থাকবে না। তবে খেলার মান নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া থাকলেও আয়োজনের ধরন নিয়ে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকার আদলে ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা, হাইড্রেশন ব্রেক এবং ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ডের সুপার বোলের মতো হাফটাইম শো ফুটবলীয় আমেজকে ব্যাহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শততম বর্ষপূর্তিতে ছয় দেশ মিলিয়ে বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কনমেবলের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই দলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল, কারণ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো তাদের প্রাপ্ত ম্যাচের স্লট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তারা এই প্রস্তাব দিলেও অন্যান্য ফেডারেশনের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ একে ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করার আইডিয়া বলে অভিহিত করেছেন।
৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে গ্রুপ সংখ্যা বাড়বে চারটি। এতে করে বর্তমান ফরম্যাটের একটি বড় সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থাকা ৮টি দল পরবর্তী পর্বে গেলেও তাদের কেউই শেষ ১৬-তে জায়গা পায়নি। ৬৪ দল হলে ১৬টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল নিয়ে সহজে শেষ ৩২-এর লাইনআপ তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া ইতালি, ডেনমার্ক ও নাইজেরিয়ার মতো বড় দলের অনুপস্থিতি এবং কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো নতুনদের চমক প্রমাণ করে যে আরও ১৬টি দল যুক্ত হলেও মান বজায় রাখা সম্ভব। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে; এশিয়ান দলগুলোর বাজে পারফরম্যান্স যেখানে উদ্বেগের বিষয়, সেখানে আফ্রিকা থেকে আসা ১০ দলের ৯টিই পরের পর্বে উঠেছে।
ফিফার সদস্য ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ নিয়ে আয়োজন করা তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব নয়। তবে ইনফান্তিনোর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এখানে বড় ফ্যাক্টর। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক এবং মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খবরদারির কারণে ইউরোপীয়দের কাছে তিনি কিছুটা চক্ষুশূল হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে উয়েফার সমর্থন পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ফিফা সভাপতির নিজের চেয়ার সুরক্ষিত না থাকলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা কেবল পরিকল্পনাই থেকে যেতে পারে।
আর নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অসম্ভবই থেকে যাবে।.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম
আপনার মতামত লিখুন :