
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই অভিযানে রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার একটি ফলের আড়তে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করার সময় আরও ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট সকালে বিমানবন্দর এলাকার ক্রাউন প্লাজার সামনে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেদিন সকালে ডিএল ফিলিং স্টেশনের টাকা একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি গাড়িটির গতি রোধ করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাম্পের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এরপর ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা আবদুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আলোচিত এই ফিলিং স্টেশনটির মালিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাই বলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, আগ্নেয়াস্ত্র এবং লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ডিবির তদন্তে উঠে আসে, এই চক্রের অন্তত আটজন সরাসরি ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল। তারা সুপরিকল্পিতভাবে টার্গেট নির্ধারণ করে তথ্য সংগ্রহ করত এবং কখনো কখনো র্যাবের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পথরোধ করত।
ডিবির অভিযানের পর এবার মামলার মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের দাবি করল র্যাব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতার নাম, পরিচয় কিংবা তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, লুটের টাকার বড় অংশটি এই মূলহোতার কাছেই রয়েছে।
এদিকে, তুরাগের কামারপাড়া এলাকার ফলের আড়তে প্রকাশ্যে চাঁদা তোলার সময় আটক হওয়া ১২ জনের বিষয়েও বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ওই এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মী যাতায়াত করেন। এমন ব্যস্ত স্থানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আটককৃতদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে র্যাব।
আপনার মতামত লিখুন :