Facebook Twitter Instagram YouTube

ভারতে পালিয়েছেন সামিরা, ১০০ কোটির প্রলোভনের দাবি সালমান শাহর মায়ের


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ /
ভারতে পালিয়েছেন সামিরা, ১০০ কোটির প্রলোভনের দাবি সালমান শাহর মায়ের

নব্বই দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর সালমান শাহর পরিবার ও তাঁর অগণিত ভক্তরা আবারও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি ও তথ্য প্রকাশ করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী সরাসরি সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরাকে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, এই মামলার অন্যতম আসামি সামিরা দোষী এবং সে একজন খুনি। খুনি না হলে সে পালাবে কেন? তিনি আরও জানান, ভারতের এক ভক্তের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে সামিরা পালিয়ে ভারতের এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে অবস্থান করছে। ওই ভক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং সামিরার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘ তিন দশক আগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নীলা চৌধুরী জানান, মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তাঁকে বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রলোভন এবং ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সালমান শাহর মৃত্যুর পর, ওই বছরেরই নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এক মন্ত্রী তাঁর বাসায় যান। ওই মন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলার আরেক আসামি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন। নাম প্রকাশ না করে নীলা চৌধুরী বলেন, সম্ভবত ওই ব্যক্তি এখন আর বেঁচে নেই। তিনি বাসায় এসে বলেছিলেন, ভাবী আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে, এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো নিজের জন্য খরচ করুন। জবাবে নীলা চৌধুরী তাঁকে বলেছিলেন, তিনি কোনো টাকা চান না, বরং তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে সালমান শাহর সাথে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের প্রেমের যে গুঞ্জন চলে আসছে, সংবাদ সম্মেলনে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন সালমানের মা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সালমান ও শাবনূরের মধ্যে কেবল পেশাগত এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল। সালমানের নিজের কোনো বোন না থাকায় তিনি শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই স্নেহ করতেন এবং সব কাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের মধ্যে কোনো অনৈতিক বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসভবন থেকে সালমান শাহর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তদন্তের নানা মোড় ও আইনি জটিলতা পেরিয়ে এখনো এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার ও ভক্তরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh