Facebook Twitter Instagram YouTube

৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় হবে ২৪৬ কোটি টাকা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ /
৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় হবে ২৪৬ কোটি টাকা

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য টাকাপে কার্ড তৈরিতে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি কার্ড তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা। তবে এই বিশাল অংকের অর্থের জোগান সরকারি তহবিল থেকে আসবে নাকি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অর্থ বিভাগ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

কার্ড তৈরির এই খরচের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের চার্জও যুক্ত হবে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থার মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিলেও খরচের দায়ভার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুবিধাভোগীদের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হবে কি না, তা নিয়ে সব পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে কার্ড তৈরির ২৪৬ কোটি টাকার বাইরে প্রশাসনিক ও লেনদেন ব্যয় যোগ করলে মোট খরচের পরিমাণ আরও বাড়বে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে টাকা চাওয়া প্রতারণার শামিল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার মানবিক উদ্যোগ।

এই কর্মসূচির আওতায় সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের হিসাব পরিচালিত হবে। পাশাপাশি টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা। সেই হিসেবে ১ কোটি ৬০ লাখ কার্ড তৈরিতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor