
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় স্বজনদের হারিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত নেপালি শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের শিক্ষার্থী তারা থাপা মাগার জানিয়েছেন, তার তিন স্বজন দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমার তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন; কিছুই জানি না। দেশ থেকে এত দূরে বসে শুধু অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে অসহায় সময় আর কী হতে পারে।' ২০ বছর বয়সী তারা পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, যার বাড়ি নেপালের রামেছাপ জেলার খাঁড়া দেবী পৌরসভায়।
নেপালে গত বুধবারের এই আকস্মিক বন্যা ও ধসে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবরের তীর্থযাত্রী অন্তর্ভুক্ত। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ার পর ভোতেকোশি অববাহিকায় কাদা-পাথরমিশ্রিত প্রবল ঢল নামে, যা ত্রিশূলী নদী হয়ে নেমে গিয়ে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা রোকা জানিয়েছেন, তার এক প্রতিবেশী সেনা কর্মকর্তা বন্যার কবলে পড়েছেন এবং এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মামা রাসুয়ায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি বলেন, 'কেউ স্বজনকে খুঁজছেন, কেউ একটি ফোনের অপেক্ষায় আছেন। আবার কোথাও মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু পরিচয় জানা যাচ্ছে না।' অনিতা তিমালসিনা নামের আরেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও তাকে বিচলিত করে তুলেছে। ২২ বছর বয়সী অনিতা পাবলিক হেলথ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অধ্যয়নরত ৪০ জন নেপালি শিক্ষার্থী এখন একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬৫ জন আমেরিকান ও যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :