
নেপাল সীমান্তসংলগ্ন তিব্বতের দুর্যোগকবলিত এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। সাম্প্রতিক ভূমিধসের পর সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটি উপচে পড়ে আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতের স্থলসীমান্তের গিরিয়ং বন্দরের উজানে তৈরি হওয়া ওই জলাধারটির পানির উচ্চতা বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বুধবার ভয়াবহ ভূমিধসের সময় কাদা ও পানির প্রবল স্রোতে ওই সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তৈরি হওয়া হ্রদটির পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, পানির চাপ যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে হ্রদের বাঁধ ভেঙে গিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরিয়ং এলাকায় অবস্থানরত উদ্ধারকারী দলগুলোকে আপাতত অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় যাওয়া ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চললেও, নতুন করে বন্যার এই আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চীনা কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :