
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আরও তীব্র হচ্ছে। এর আগে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের টানা ২৫ দিনের অনশন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের ঘটনা এই বিক্ষোভকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী অভিযান ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন শহরের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
গত সোমবার ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে বহু শিক্ষার্থী ও শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিআরপিএফ-এর অতিরিক্ত ২০টি কোম্পানিকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবের মতো শীর্ষ বিরোধী নেতারা আন্দোলনকারীদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করলে তাদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেছেন যে, বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টে আলোচনার পথ এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা জানিয়েছেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :