
মায়ামির প্রচণ্ড গরম আর ক্লান্তিকর খেলার মাঝেও বড় ম্যাচে নিজেকে চিনিয়ে দিলেন জুড বেলিংহ্যাম। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারের জোড়া গোলই থ্রি লায়ন্সদের জয়ের পথ নিশ্চিত করেছে। এর আগে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মেক্সিকোর বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল করেছিলেন, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ছয়টি।
ম্যাচটি ছিল ধীরগতির ও নিয়ন্ত্রিত। মায়ামির অসহনীয় গরমের প্রভাব খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট ছিল, যার ফলে প্রথমার্ধে আক্রমণগুলো খুব একটা ধারালো ছিল না। ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপের অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। তবে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে তুলনামূলক বেশি গোছানো ফুটবল খেললেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। এ সময় তাদের দুটি গোল বাতিল হয় এবং ক্রিস্টোফার আইয়ারের একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগও বেশ কয়েকবার চাপের মুখে পড়েছিল। নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পেলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় অতিরিক্ত সময়ে। কিছুক্ষণ পর প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে শক্তিশালী শট নেন মরগান রজার্স। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরয়্যান নিলান্দ বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হলে বল চলে যায় বেলিংহ্যামের কাছে। তিনি কোনো ভুল না করে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। আর্লিং হালান্ড পুরো ম্যাচে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও শেষ চারে খেলেছিল তারা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এখন তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ড।
আপনার মতামত লিখুন :