
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করার জন্য কিছু মহলের সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার উয়েফার এক নারী কর্মীকে 'বিদায়ী অর্থ' দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর ফিফা শনিবার এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তাদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির মহাসচিব ছিলেন এবং উয়েফার মহাসচিব থাকাকালীন ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ওই নারী ১৬ বছরের ক্যারিয়ারের পর ছয় অঙ্কের অর্থ এবং স্নাতকোত্তর কোর্সের খরচ পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। উয়েফাও অর্থ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে যে, সে সময়ের নিয়ম মেনেই এটি করা হয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
ফিফার বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভিত্তিহীন বক্তব্য ও স্পষ্ট মিথ্যা দাবির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর কর্তৃত্ব কমিয়ে তাকে যথাযথ পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ফিফা জানিয়েছে, যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সফল হতে ব্যর্থ হয়, তারাই এমন ইঙ্গিত ও ভুল তথ্যের আশ্রয় নেয়। একই সঙ্গে তারা ইনফান্তিনোর আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ‘২১১টি সদস্য সংস্থার সবার কল্যাণে সম্মিলিতভাবে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।’
ফিফা প্রেসিডেন্ট বর্তমানে উয়েফার সমালোচনার মুখে রয়েছেন, কারণ তিনি তার কিছু বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে চাপের মধ্যে আছেন। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে ইউরোপের বাইরে কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের মতো সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে দলের সংখ্যা ৬৪-তে বাড়ানোর জন্য ফিফার কাছে আবেদন জানাচ্ছে। ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পরিবর্তনের সাথে মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংস্থাটি দৃঢ় অবস্থান নেবে।
আপনার মতামত লিখুন :