Facebook Twitter Instagram YouTube

গুগলের এআই সেবায় বড় পরিবর্তন: জেমিনি ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ / ০
গুগলের এআই সেবায় বড় পরিবর্তন: জেমিনি ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে গুগল। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে গুগলের বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহারের সুযোগ আর থাকছে না। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ ও ডেস্কটপ সংস্করণে ব্যবহারকারীরা একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু ৯ অক্টোবরের পর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর শুধুমাত্র জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেলের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মূলত একটি সাশ্রয়ী মডেল হিসেবে পরিচিত। এর চেয়ে বেশি কার্যকর জেমিনি ফ্ল্যাশ এবং জটিল যুক্তি বিশ্লেষণের জন্য জেমিনি প্রো মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধুমাত্র বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যারা গুগলের এআই প্লাস সাবস্ক্রিপশন ব্যবহার করছেন, তারাও এর আওতায় পড়বেন। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলার মূল্যের এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন। গুগলের দাবি, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত, কোডিং এবং টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে অত্যন্ত দক্ষ। ফলে পড়াশোনা বা বড় নথি বিশ্লেষণের মতো কাজের জন্য ব্যবহারকারীদের আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে।

বর্তমানে গুগল এআই প্রোর মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ২০ ডলার। এছাড়া উচ্চ ব্যবহারের সীমা থাকা এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। মডেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুগল নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করছে। ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী লো, মিডিয়াম ও হাই—এই তিনটি স্তর থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। তবে উচ্চতর স্তর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যবহারের সীমা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

এআই আল্ট্রা গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে ‘ডিপ থিংক’ অপশন থাকছে, যা জেমিনির সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিশ্চিত করবে। এছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন উন্মুক্ত হলে এআই আল্ট্রা গ্রাহকেরাও তা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এই মডেলটি গুগলের ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর অধীনে সরকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারদের জন্য সীমিত আকারে উন্মুক্ত রয়েছে।

সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য জেমিনি ফ্ল্যাশ ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে লেখালেখি, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ বা তথ্য সংক্ষেপের মতো কাজ করা যায়। অন্যদিকে, জেমিনি প্রো জটিল গণিত ও যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din