
দাদার মৃত্যুর পর এতিমদের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। যদি দাদা কোনো কারণে হেবা বা অসিয়তের মাধ্যমে সম্পদের ব্যবস্থা করে যেতে না পারেন, তবুও এতিমরা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্পদ বণ্টনের সময় যদি এতিম ও মিসকিনরা উপস্থিত থাকে, তবে তাদের সেখান থেকে কিছু অংশ দান করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সদালাপ করতে হবে।
এতিম ও অসহায়দের কল্যাণে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। পবিত্র কোরআনে তাদের সম্পদ সুরক্ষা এবং সদয় আচরণের নির্দেশ বারবার দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ২ নম্বর আয়াতে এতিমদের ধনসম্পদ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাদের সম্পদের সঙ্গে নিজেদের সম্পদ মিশিয়ে গ্রাস করা মহাপাপ। এটি তাদের আর্থিক সুরক্ষায় ইসলামের কঠোর ও আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে।
এতিমদের প্রতি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের দিকেও ইসলাম গুরুত্বারোপ করে। সুরা নিসার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এতিমরা বিয়ের উপযুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবকদের তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। যখন তাদের সমঝদার মনে হবে, তখনই কেবল তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অভিভাবক হিসেবে তাদের বেড়ে ওঠা ও পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়াটিতেও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
নবীজি মুহাম্মদ (সা.) এতিম ও অসহায়দের সেবার ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। বোখারি শরিফের ৫৩৫৩ নম্বর হাদিসে তিনি বলেছেন, বিধবা ও গরিবদের সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী কিংবা সারারাত ইবাদতকারী ও দিনে রোজাদার ব্যক্তির সমান মর্যাদা পায়। এই হাদিস এতিমদের সেবাকে উচ্চতর ইবাদতের সমতুল্য করেছে।
ইসলামের এই বিস্তৃত নির্দেশনাগুলো যদি মুসলিম সমাজে সঠিকভাবে পালিত হয়, তবে কোনো অসহায় ব্যক্তিই সমাজে অবহেলিত থাকবে না। বরং এতিমদের অধিকার সুরক্ষা ও সুস্থ বিকাশের মাধ্যমে একটি সহানুভূতিশীল এবং সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :