Facebook Twitter Instagram YouTube

জাপানে কুমামোতো ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০


প্রকাশের সময় : জুলাই ৩০, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ /
জাপানে কুমামোতো ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে দুর্যোগকবলিত হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরও এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) এই দুর্যোগের নাম দিয়েছে ‘২০২৬ কুমামোতো ভূমিকম্প’।

কুমামোতো প্রিফেকচার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দুইজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া কাশিমা শহরের একটি শপিং সেন্টারে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে আরও একজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পটি জাপানের ০ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প তীব্রতা স্কেলে সর্বোচ্চ ৭ মাত্রা রেকর্ড করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কুমামোতো ও এর আশেপাশের এলাকায় মোট ২৫৯টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটির তীব্রতা ছিল নিম্ন-৫ এবং ১৪টির তীব্রতা ছিল ৪। সংস্থাটি আগামী অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইয়াতসুশিরো শহরে বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পানির তীব্র সংকট রয়েছে এবং খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমামোতো প্রিফেকচার সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য ২২টি ভাষায় ২৪ ঘণ্টার একটি বহুভাষিক টেলিফোন অনুবাদসেবা চালু করেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কুমামোতো ও নাগাসাকি প্রিফেকচারে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং দুর্যোগ-তথ্য পোর্টালে আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।

এদিকে, ভূমিকম্পের পাশাপাশি জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারও পূর্ব থেকে পশ্চিম জাপানের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কোফু ও ৎসুয়ামা শহরে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৩১টিতে হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুমামোতো ও হিতোয়োশি শহরে প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং কর্তৃপক্ষ বয়স্ক, শিশু ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin