
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের তদারকিতে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে পৌর প্রশাসন ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে। গতকাল রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, দায়িত্ব অবহেলার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিনকেও শোকজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স’-এর মালিক শহিদুল ইসলামকে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে সাইট থেকে অতি নিম্নমানের মালামাল অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)’-এর আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিক্যাল রোড পর্যন্ত এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক সংস্কারে ম্যাকাডমের জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় ঠিকাদার ফিরোজ আলম—যিনি লক্ষ্মীপুরের ‘অঙ্গশোভা’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক—কাজটি কিনে নিয়ে শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছেন। খোয়ার বদলে রাবিশ ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রোববার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং মালামাল অপসারণের সময়সীমা বেঁধে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :