
বিশ্ব ক্রিকেটের চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মহাতারকা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের এক সোনালী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
১৯৬৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা মেরে অনন্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন সোবার্স, যা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এমন কীর্তি। তাঁর বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আবেগঘন এক পোস্ট করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে তারা লিখেছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান হলো। স্যার গারফিল্ড সোবার্স, আপনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে আছেন এবং থাকবেন।’
সোবার্সের অসাধারণ প্রতিভা শুধু ব্যাটিংয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি সাবেক অধিনায়ক ও প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার প্রয়াত রিচি বেনো তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যের প্রশংসা করে লিখেছিলেন, ‘সোবার্স ছিলেন বিশ্বের দেখা সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। তিনি একাধারে যেমন দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান ও অসাধারণ ফিল্ডার ছিলেন, ঠিক তেমনি নতুন বলের গতি থেকে শুরু করে লেফট-আর্ম স্পিন—সব ধরনের বোলিংয়েই সমান পারদর্শী ছিলেন।’
১৯৫৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি গায়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। এরপর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটিকেই তিনি রূপ দেন অপরাজিত ৩৬৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংসে। তাঁর এই ইনিংসটি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড হিসেবে অক্ষুণ্ন ছিল।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮,০৩২ রান সংগ্রহ করেছেন সোবার্স। পাশাপাশি বল হাতে ৩৪.০৩ গড়ে শিকার করেছেন ২৩৫টি উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার বা তার বেশি রান করা ব্যাটারদের তালিকায় তাঁর ব্যাটিং গড় আজও চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ২৮ হাজার রান এবং ১,০০০-এর বেশি উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি।
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হন এই কিংবদন্তি। বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তাদের বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারকে এই মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’ দিয়ে সম্মানিত করে থাকে।
আপনার মতামত লিখুন :