Facebook Twitter Instagram YouTube

২১ আগস্ট থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৯, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ /
২১ আগস্ট থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে এবং টেলিটকের কারিগরি সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই বদলি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। আগ্রহী শিক্ষকরা আগামী ২১ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন।

মাউশির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক এই বদলি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আবেদনকারীদের নির্ধারিত সফটওয়্যারে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে সারা দেশে শিক্ষক বদলির জন্য ৬১ হাজার ৭৮২টি শূন্যপদ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ফলে শূন্যপদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনকারীই বদলির সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালার শর্ত পূরণকারী শিক্ষকরাই আবেদনের যোগ্য বিবেচিত হবেন এবং কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অগ্রাধিকার ও শূন্যপদের ভিত্তিতে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে কেউ সমস্যায় পড়লে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য হবেন না। ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়ে আবেদন করলে তা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য হবেন। একইভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে নিজের স্থায়ী বা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে একই বিভাগের অন্য জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থল জেলায় বদলির আবেদন করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।

একটি শূন্যপদের বিপরীতে একাধিক আবেদন পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এতে নারী শিক্ষক, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতাসহ নির্ধারিত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিযোগী আবেদনকারীদের কর্মস্থল একই বা ভিন্ন উপজেলা কিংবা জেলায় হলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্বও বিবেচনা করা হবে। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন এবং একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।

বদলির ফলে শিক্ষকের এমপিও, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তবে বদলির কারণে কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না। বদলির আদেশ প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে অবমুক্ত বা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসাবে গণ্য হবে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনলাইনে মাউশির মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানকে জানাতে হবে।

এদিকে, অনেক শিক্ষক এখনো বদলি আবেদনের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মাউশিতে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সমস্যা সমাধানে নানা ভুলভ্রান্তি থাকায় এই বদলির আগে তা সমাধান করা সম্ভব হবে না এবং তারা পরবর্তী বদলির সময়ে আবেদনের সুযোগ পাবেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দূর-দূরান্তে কর্মরত শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বদলি কার্যক্রম শেষ করার পর নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor