
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে বিভাগে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে চট্টগ্রামের দুজন ব্যক্তি আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইনশাআল্লাহ যোগ করে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এছাড়া সেখানে তিনি একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন। বাঁশখালীর বহু প্রতীক্ষিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ এবং অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।
দেশের মানুষের পাশে থাকাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লবণ চাষিদের জন্য কৃষক কার্ডের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ধান বা পাটের চাষিদের মতো লবণ চাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন এবং তাদের কষ্ট কমাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত জ্বালানি ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে এবং আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশৃঙ্খলা থাকলে বিনিয়োগকারীরা আসবে না, তাই বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তরুণ সমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :