Facebook Twitter Instagram YouTube

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যেসব স্থলজ প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১০, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ /
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যেসব স্থলজ প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ

ইসলামি শরিয়াহ মানুষের জীবনের প্রতিটি বিষয়ের সমাধান প্রদান করেছে, যার মধ্যে খাদ্য গ্রহণ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা অন্যতম। আল্লাহ তাআলা হালাল বস্তু গ্রহণ এবং হারাম বর্জনের নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা আনআমের ১৪৫ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের মাংস ছাড়া মানুষের জন্য অন্য কোনো খাদ্য নিষিদ্ধ নয়। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবরা বিভিন্ন প্রথা অনুসরণ করলেও, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে হালাল ও হারামের সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুরা আরাফের ১৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ পবিত্র বস্তুগুলোকে হালাল এবং অপবিত্র ও নোংরা বস্তুগুলোকে হারাম করেছেন।

প্রাণী জগতকে প্রধানত স্থলজ ও জলজ—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। জলজ প্রাণীর মধ্যে মাছ ছাড়া অন্য সব প্রাণী খাওয়া হারাম। স্থলজ প্রাণীর ক্ষেত্রে ইসলামি আইন তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, যেসব প্রাণীর রক্ত নেই, যেমন মশা, মাছি, মাকড়সা ও পিঁপড়া। দ্বিতীয়ত, যেসব প্রাণী প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট নয়, যেমন সাপ ও ইঁদুর। এই দুই প্রকারের প্রাণীর মধ্যে টিড্ডি বা পঙ্গপাল ছাড়া বাকি সব ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় খাওয়া হারাম। তৃতীয়ত, প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী, যা আবার পাখি ও চতুষ্পদ জন্তুতে বিভক্ত।

পাখির ক্ষেত্রে যেসব পাখির থাবা ও নখর থাকে, যেমন চিল, শকুন, বাজ ও ঈগল, সেগুলো খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিকারি দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী এবং শিকারি নখবিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন, যা সহিহ বুখারির ৫৫৩০ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে ঠোঁটের সাহায্যে আহার করা পাখি হালাল। এসব পাখির মধ্যে যদি নাপাকি খাওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে তা মাকরুহ, কিন্তু খাদ্যের বড় অংশ হালাল হলে তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে।

পশুর ক্ষেত্রে যেসব পশু থাবা মেরে আক্রমণ করে খায়, যেমন সিংহ, বাঘ, কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বানর ও হাতি, সেগুলো খাওয়া হারাম। অন্যদিকে, অহিংস্র গৃহপালিত পশু যেমন গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, উট ও দুম্বা হালাল। বন্য পশুর মধ্যে বন্য গরু, হরিণ, খরগোশ ও বন্য গাধা খাওয়া যাবে। তবে সব ধরনের ঘোড়া ও গৃহপালিত গাধা খাওয়া মাকরুহ। সাহাবি জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, খায়বার যুদ্ধের দিন রাসুল (সা.) গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছিলেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২১৬)।

যেসব প্রাণীর পুরো শরীর অপবিত্র, যেমন শূকর, তা সর্বাবস্থায় হারাম। এছাড়া আল্লাহর নাম উচ্চারণ ছাড়া জবাই করা প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ, কারণ সুরা আনআমের ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি তা আহার না করতে। তবে চরম পর্যায়ে জীবন বাঁচানো বা চিকিৎসার প্রয়োজনে নিরুপায় অবস্থায় নিষিদ্ধ বস্তু খাওয়ার অনুমতি রয়েছে, যা সুরা আনআমের ১১৯ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

স্থলজ প্রাণী তিন প্রকার। ১. ওই সব প্রাণী, যার কোনো রক্ত নেই। যথা- মশা, মাছি, মাকড়সা, পিঁপড়া ইত্যাদি। ২. প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী নয়। যেমন- সাপ, ইুঁদর ইত্যাদি। উভয় প্রকার প্রাণীর মধ্যে টিড্ডি ছাড়া বাকি সব ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় সেগুলো খাওয়া হারাম। ৩. ওই সব প্রাণী, যা প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট হয়। যেমন- পাখি ও অন্যান্য চতুষ

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh