বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলনের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশের অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্য নিয়ে। জিয়াউর রহমানের বৈপ্লবিক কর্মসূচি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। তিনি কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেননি। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পেছনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা ছিল প্রধান। তিনি বলেন, আজ বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর আদর্শ ও সাহসের পথ ধরেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে রিজভী জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছে। ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সরকার সংকট সমাধানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে এবং মহেশখালীর টার্মিনাল মেরামতের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দল ও সরকারের কাজের সমন্বয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি ও সরকার আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের লক্ষ্য অভিন্ন। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জনকল্যাণমূলক কাজের প্রচার করবেন। বিএনপির লক্ষ্য হলো ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়ন করা। পরিশেষে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই এখন বিএনপির টিকে থাকার মূল ভিত্তি।
আপনার মতামত লিখুন :