
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। রবিবার এই মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ তা আদালতে জমা দিতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটিতে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি এবং খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। সামীরা ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক ও শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি দাবি করেন যে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ওই বছরের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করলে সালমানের বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন।
পরবর্তীতে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। পরে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিমের ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন সালমানের কিছু একটা হয়েছে। তারা দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন সালমানের নিথর দেহ শয়নকক্ষে পড়ে আছে এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের ঘরে সামীরার আত্মীয় রুবি বসা ছিলেন। সালমানের মায়ের চিৎকারে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মামলার তদন্তের স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দিলে বাদীপক্ষ তা বাতিলের আবেদন জানায়, যা পরবর্তীতে নথিভুক্ত করা হয়। পরে গত ২২ জুন কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নিয়োগ দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সম্প্রতি এই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :