
দেশের অন্যান্য শিল্প খাতের শ্রমিকদের তুলনায় চা শিল্পের কারিগরি শ্রমিকদের দৈনিক ও মাসিক মজুরি অত্যন্ত নাজুক বলে দাবি করেছেন চা শ্রমিক নেতারা। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ভবিষ্যতে উন্নত জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (লেবার হাউজ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চা বাগানগুলোর বিদ্যমান শ্রম পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য সরকার গত ১৯ আগস্ট একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, গঠিত কমিটি বিভিন্ন চা বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি নিরপেক্ষ ও বাস্তবমুখী প্রতিবেদন সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।
নৃপেন পাল বলেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা দূর করে সরকার চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করবে। এটি চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মনে করেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বাচাশ্রই) নির্বাচন প্রসঙ্গে নৃপেন পাল বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তারা অবগত হয়েছেন। এছাড়াও গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চা শ্রমিকদের আশু কল্যাণ, বর্তমান সরকারের চা শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিকতা এবং দেশের চা শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা চা শ্রমিকদের প্রতি সাময়িকভাবে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সময়ের প্রয়োজনে কিছুটা অপেক্ষা করলে চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ এবং কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজনের পথ আরও সুগম হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া চা জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গণমাধ্যমকে যথাযথভাবে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান তারা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কন্দের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ট তাঁতী, সহসভাপতি জেসমিন আক্তার, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশিরা ভ্যালির সহসভাপতি সবিতা গোয়ালা ও সাংগঠনিক সম্পাদক কর্ণ তাঁতী, সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা ও সম্পাদক দেবু বাউরী, লংলা ভ্যালির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, জুড়ী ভ্যালির সভাপতি কমল চন্দ্র বুনার্জি, সহসভাপতি শ্রীমতি বাউরী এবং সম্পাদক রতন কুমার পাল।
আপনার মতামত লিখুন :