Facebook Twitter Instagram YouTube

ইরানকে আলোচনার শেষ সুযোগ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৪, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ /
ইরানকে আলোচনার শেষ সুযোগ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের সামনে এখন ‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’ রয়েছে এবং তিনি চান তেহরান যেন একটি ভালো চুক্তিতে সই করার এই সর্বশেষ সুযোগটি কাজে লাগায়।

তবে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (৩ আগস্ট) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে তেহরানের এই অবস্থানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এখনই কথা বলছি।’

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। তিনি মন্তব্য করেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুব শিগগিরই, এমনকি ‘আগামীকালই’ খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই হতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। গত কয়েক মাসে দফায় দফায় কূটনৈতিক যোগাযোগ হলেও উত্তেজনা কমেনি। যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও ইরান মার্কিন ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং তাদের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থানে গত কয়েক দিনে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের ওপর ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কথাও বলেছিলেন। তবে শনিবার তিনি জানান, একটি চুক্তির ‘কাঠামো’ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইরানকে ‘দ্বিমুখী নীতির’ জন্য অভিযুক্ত করে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ইরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানে কিছুই প্রবেশ করতে পারবে না এবং কোনো চুক্তি বা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, বরং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে তেহরান। বাঘাই জানান, দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি রুট নির্ধারণে তারা সমঝোতার পথে রয়েছেন, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার ও ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে এই সমঝোতা হলেই প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এমন নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এদিকে, রোববার ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সেন্টার, তবে জাহাজ ও ক্রুরা নিরাপদে ছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো তাকে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল, তবে ইরানের গণমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor