Facebook Twitter Instagram YouTube

দাম্পত্য জীবনে অহেতুক সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কুফল এবং ইসলামের নির্দেশনা


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৯, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ /
দাম্পত্য জীবনে অহেতুক সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কুফল এবং ইসলামের নির্দেশনা

সুখী দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সহমর্মিতা। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস যত গভীর হয়, সম্পর্কের বন্ধন তত দৃঢ় থাকে। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং ইন্টারনেটের ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অহেতুক সন্দেহ ও অবিশ্বাসের অনুপ্রবেশ ঘটছে। এই নেতিবাচক মানসিকতা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত দাম্পত্য কলহ, নির্যাতন এবং পারিবারিক ভাঙনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

ইসলাম একটি স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের প্রতি অযথা খারাপ ধারণা পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রমাণ ছাড়া কোনো মুসলমানের প্রতি কুধারণা পোষণ করা ইসলামে হারাম। অহেতুক সন্দেহ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের শান্তি নষ্ট করে এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি ধ্বংস করে। আল্লাহ তায়ালা সুরা আহজাবের ৫৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করে।

ইসলামে অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে গোয়েন্দাগিরি করা, দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং পেছনে সমালোচনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মোমিনদের অন্যের ব্যাপারে অধিকাংশ অনুমান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্দেহকে সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন (বোখারি : ৪৯১৭)। এছাড়া সুনানে আবি দাউদের ৪৮৮২ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, যারা অন্যদের দোষ খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ তাদের দোষ ধরবেন এবং তাদের ঘরের ভেতরেও লাঞ্ছিত করবেন।

বর্তমানে অনেক দম্পতি একে অপরের অগোচরে মোবাইল ফোন বা ম্যাসেজিং অ্যাপ চেক করার মতো গোয়েন্দাগিরিতে লিপ্ত হন, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর থেকে ফিরে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহবশত রাতের বেলা অতর্কিতে ঘরে গিয়ে উপস্থিত হতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম : ৪৮১৬)। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর থেকে এসে রাতে ঘরে ফেরা অপছন্দ করতেন (বোখারি : ৪৮১২)। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামী বা স্ত্রী সন্দেহজনক কোনো কাজে লিপ্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করাই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহর ওপর গোপনীয় বিষয় ছেড়ে দিয়ে একে অপরের প্রতি সদাচরণ করলে বৈবাহিক জীবনে বরকত ও শান্তি বজায় থাকে।

ইসলামে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হওয়াকে কাফেরের কাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সুরা বনি ইসরাইলের ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হওয়া যাবে না, কারণ কান, চোখ ও হৃদয়ের প্রতিটি বিষয়ের কৈফিয়ত তলব করা হবে। এছাড়া সুরা নাজম (২৮) এবং সুরা আনআমের (১১৬) আয়াতে অহেতুক ধারণা ও অনুমানের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। মোমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার ভিত্তি হলো একে অপরের প্রতি সুধারণা রাখা এবং হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে ভাই হিসেবে বসবাস করা (বোখারি : ৪৮৪৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মনে যেসব কথা আসে, আল্লাহ তা মাফ করে দিয়েছেন যে পর্যন্ত না সে অনুযায়ী কোনো কাজ করে বা মুখে উচ্চারণ করে’ (বোখারি : ৬৬৬৪)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh