
লিবিয়া থেকে অবৈধপথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এই ঘটনায় ১১ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ৮ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই যুবকদের নিহত হওয়ার বিষয়টি পরিবার বা স্বজনদের কাছে এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকজন যুবক ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরে লিবিয়া পৌঁছান। পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট রাতে তারা একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাত্রার দিন ও তার আগে অনেকেরই নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে ছেড়ে আসা নৌকাটিতে মোট ৪২ জন যাত্রী ছিল, যার মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। মাঝ সমুদ্রে বোট নষ্ট হয়ে যাওয়া ও খাবার ও পানি সংকটের কারণে ১১ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ থাকা সুনামগঞ্জের যুবকদের মধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ২ জন এবং দিরাই উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
নিখোঁজ যুবকদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন, রনসী গ্রামের মো. তালহা। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু, গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ এবং দিরাই পৌর এলাকার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে এসব পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, শুরুতে ভূমধ্যসাগর থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সচেতন মহল স্বপ্নের ইউরোপে পাড়ি দিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পরিহার করে বৈধ পথে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :