
বারবার তফসিল পরিবর্তন ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার পর তা আবার স্থগিত করার ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে শিক্ষার্থী সংসদ যুক্ত হওয়ার পর ৪ নভেম্বর মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে প্রধান করে প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পরই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে জটিলতা শুরু হয়। এরপর ১১ নভেম্বর পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের নতুন কমিশন গঠন করা হলেও কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটেনি।
১৮ নভেম্বর প্রথম তফসিল ঘোষণার পর ২৪ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে দ্বিতীয় তফসিল দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগ তুলে ১ ডিসেম্বর কমিশন সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৩ ডিসেম্বর তৃতীয় তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন আকস্মিকভাবে লাপাত্তা হয়ে গেলে প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। ১০ ডিসেম্বর রাতে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরদিন ড. মো. শাহজামান দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করেন এবং চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
কমিশনার না থাকায় ১৩ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলে তিনি নতুন কমিশনার নিয়োগের আশ্বাস দেন। তবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী অধ্যাপক না পাওয়ায় দীর্ঘ ১২ দিন পর ১১ জানুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের রাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কথা জানিয়ে ফের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনের পর ব্রাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের দাবি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নতুন বিতর্কের মুখে ফেলেছে। বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বর্তমান গঠনতন্ত্রের ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী পরিষদ’-এর ভিপি প্রার্থী আহমাদুল হক আলবী প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানা জানান, গঠনতন্ত্র সংশোধনের ক্ষমতা কমিশনের নেই এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় তফসিল সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
আপনার মতামত লিখুন :