Facebook Twitter Instagram YouTube

দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথ ইতিবাচক মনে করেন ৬২ ভাগ মানুষ


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৯, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ /
দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথ ইতিবাচক মনে করেন ৬২ ভাগ মানুষ

বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিকাংশ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে ‘মোটামুটি ভালো’ অথবা ‘খুব ভালো’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

তবে জনমতের এই ইতিবাচক দিকটির পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনসাধারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা বিদ্যমান।

আইআরআইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও গত ৯ই আগস্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৫৭ পৃষ্ঠার রিপোর্টে জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য ধারাবাহিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।

জরিপে দেশের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করেছেন সাধারণ মানুষ। ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১৫ শতাংশ মানুষ মাদক এবং ১২ শতাংশ মানুষ আইনশৃংখলা পরিস্থিতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ে উদ্বেগ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে; ২০২৫ সালের জরিপে যেখানে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ মাদককে বড় সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন, এবার সেই হার বেড়ে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে উত্তরদাতারা তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চেয়েছেন। এছাড়া ২২ শতাংশ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ২১ শতাংশ সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। জোহানা কাও বলেন, নাগরিকরা তাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দিয়ে অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করা।

আইআরআইয়ের পক্ষে স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশের আটটি বিভাগ ও ৬৪ জেলার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ হাজার বাংলাদেশির ওপর এই জরিপ চালানো হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ২০২২ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে বিভাগ, বয়স, লিঙ্গ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নমুনা সমন্বয় করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin