Facebook Twitter Instagram YouTube

সরকারি ব্যয় হ্রাসে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ /
সরকারি ব্যয় হ্রাসে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের

কয়েক বছর ধরে কোভিড এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নিম্নগামী অর্থনৈতিক সূচকগুলোর কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্য সংকট এই চাপকে আরও ঘনীভূত করেছে। একদিকে জ্বালানি পণ্যের বাড়তি দাম ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির চাপ, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বোঝা—সব মিলিয়ে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যের শ্লথগতির কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় খাতগুলো পর্যালোচনা করে খরচের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, সক্ষমতা বিবেচনা না করেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার জন্য বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই অংক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত অর্থবছরের আদায় করা শুল্ক-করের প্রায় ২৫ শতাংশ।

জাহিদ হোসেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের একটি অংশ মনে করছে যে কোনোভাবে অর্থের জোগান হয়ে যাবে, যা ভুল পথ। এনবিআর-এর পক্ষে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব, অথচ বেতন-ভাতা ও জ্বালানি আমদানির জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০-৭০ ডলার থেকে বেড়ে ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং এলএনজি আমদানির খরচও দ্বিগুণ হয়েছে। এই বাড়তি খরচের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, ঋণ পরিশোধের খরচ প্রতিবছরই বাড়ছে এবং বেতন-ভাতার জন্য বাড়তি ১ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন কেবল এক বছরের জন্য নয়, বরং এটি চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংস্কার ছাড়া বর্তমান রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে টাকা ছাপিয়ে বা ধারদেনা করে এই ব্যয় মেটানো সঠিক বিকল্প হতে পারে না। তাই সরকারি ব্যয় খাতগুলোর পর্যালোচনা করে খরচ কমানোর সুযোগগুলো কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo