
ইরান বর্তমানে তাদের প্রচলিত সংযম প্রদর্শনের নীতি থেকে সরে এসে কুয়েতকে একটি বিশেষ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশ্রয়দাতা দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশোধমূলক সক্ষমতার বার্তা দিতে চাইছে তেহরান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিষয়ের অধ্যাপক রোক্সান ফার্মানফার্মিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ফার্মানফার্মিয়ান জানান, ইরানের অভ্যন্তরে বর্তমানে এই ধারণাটি বেশ জোরালো হয়েছে যে, কোনো ধরনের সংযম বজায় রাখা এখন আর আলোচনা বা সমঝোতার ক্ষেত্রে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, ইরানের সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেশটির জনমত ও নীতি নির্ধারকদের মনোভাব আগের চেয়ে অনেক কঠোর হয়েছে। তারা মনে করছেন, ইরানকে এখন পাল্টা শক্ত আঘাত করতে হবে, নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হবে এবং এই যুদ্ধে আমেরিকার দীর্ঘ মেয়াদে জড়িয়ে থাকার সক্ষমতাকে ব্যাহত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞের ভাষ্যমতে, ইরান বিশেষ করে কুয়েতকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এটি দেখাতে চাইছে যে তারা কত বড় ধরনের প্রতিশোধ নিতে সক্ষম। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চল, বিভিন্ন বিমানবন্দর, পানি শোধনাকরণ প্ল্যান্ট এবং সেতুগুলোতে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরানও কুয়েতের ঠিক একই ধরনের স্থাপনাগুলোকে আঘাত করছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জায়গা দিয়েছে, তাদের ওপর ইরান কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে তা পরিষ্কারভাবে প্রদর্শন করা।
আপনার মতামত লিখুন :