Facebook Twitter Instagram YouTube

গোপনে বিয়ে করা কি ইসলামে গ্রহণযোগ্য? জানুন শরীয়তের বিধান


প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ /
গোপনে বিয়ে করা কি ইসলামে গ্রহণযোগ্য? জানুন শরীয়তের বিধান

গোপনে বিয়ে করা বা লোকচক্ষুর অন্তরালে আকদ সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে সমাজে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও আলোচনা রয়েছে। ইসলামি শরীয়তে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে বিয়ের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজে একটি নতুন পরিবারের আত্মপ্রকাশ ঘটানো এবং ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা। তাই ইসলামে বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা করে বা প্রকাশ্যে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করো এবং তা মসজিদে সম্পন্ন করো।’ (তিরমিজি)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হালাল বিয়ে এবং হারাম সম্পর্কের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো বিয়ের ঘোষণা ও দফ (এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র) বাজানো।

যদি গোপন বিয়ে বলতে এমন কোনো বিয়ে বোঝানো হয় যেখানে দুজন সাক্ষী থাকলেও তাদের বিয়ের কথা গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে এর বিধান নিয়ে ইসলামি আইনজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কারণ বিয়ের সাক্ষী রাখার মূল উদ্দেশ্যই হলো বিয়ের খবর সর্বসমক্ষে প্রচার করা, যাতে দুই পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত হয়, সমাজে কোনো সংশয় সৃষ্টি না হয় এবং হালাল ও হারামের পার্থক্য স্পষ্ট থাকে।

জামিয়া আল-আজহারের সাবেক গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ মাহমুদ শালতুত (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, যদি বিয়ের সময় দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকেন কিন্তু তাদের কাছ থেকে বিয়ের কথা গোপন রাখার কড়া অঙ্গীকার নেওয়া হয়, তবে সব ফকীহ এই পরিস্থিতিকে একবাক্যে অপছন্দনীয় বা মাকরুহ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এর বৈধতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে। একদল ফকীহর মতে, দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলেই বিয়ে গোপন থাকে না এবং তা বৈধ গণ্য হয়, এক্ষেত্রে গোপন রাখার অনুরোধ বিয়ের বৈধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না।

অন্যদিকে, ইমাম মালেকসহ (রহ.) অপর একদল ফকীহর মতে, বিয়ের খবর গোপন রাখার সমঝোতা বা নির্দেশ সাক্ষ্যের মূল উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করে দেয়। তাদের মতে, বিয়ের খবর সর্বসমক্ষে ঘোষণা করা জরুরি, যেন মানুষের মধ্যে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি না হয় এবং হালাল-হারামের পার্থক্য স্পষ্ট থাকে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy