Facebook Twitter Instagram YouTube

চলে গেলেন প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ / ০
চলে গেলেন প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর

ভারতীয় চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অভিনেতা অক্ষয় কুমারসহ অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। পুনের উপকণ্ঠে দোঞ্জে এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজের খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় নানা পাটেকরের জন্ম। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া নানা কৈশোরে সিনেমার পোস্টার এঁকে উপার্জন করতেন। পরবর্তীতে মুম্বাইয়ের স্যার জে জে ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড আর্টসে পড়াশোনা করেন। মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। আশির দশকে ‘অঙ্কুশ’, ‘প্রতিঘাত’, ‘মোহরে’ ও ‘সালাম বম্বে!’ ছবির মাধ্যমে তিনি নজর কাড়েন।

বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত ‘পরিন্দা’ ছবির খলচরিত্রে অভিনয় করে নানা পাটেকর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকে ‘প্রহার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ও ‘ওয়াজুদ’-এর মতো বৈচিত্র্যময় সব ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালের ‘ক্রান্তিবীর’ ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পান। এছাড়া ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘রাজনীতি’ এবং হাস্যরসাত্মক চরিত্রে ‘ওয়েলকাম’ চলচ্চিত্রেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করে। তিনি ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ পরিচালনাও করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ ও ওটিটি সিরিজ ‘সংকল্প’-এ তাঁকে দেখা গেছে।

ব্যক্তিজীবনে নানা পাটেকর চাকচিক্য এড়িয়ে পুনের খামারবাড়িতে নিভৃত জীবনযাপন করতেন। প্রচারবিমুখ এই অভিনেতা সমাজসেবায় বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষকদের সহায়তায় মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে আলাপচারিতায় নিজের নিভৃত জীবন নিয়ে মজা করে বলেছিলেন, ‘আমি তো সব সময় কোয়ারেন্টিনেই থাকি।’ ২০২৩ সালে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘আপনি মারা গেলে কেউ মনে রাখবে না। তাই যত দিন বেঁচে আছেন, আনন্দে থাকুন।’ অথচ মৃত্যুর পর তাঁর বৈচিত্র্যময় অভিনয়শৈলী ও মানবিক কাজের জন্য আজ তাঁকে স্মরণ করছেন অগণিত দর্শক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo