
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটের নেতারা ক্ষমতার অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন না করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শরিক দলের নেতাদের এক নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে বিএনপি এখন আর জাতীয় সরকার গঠন করতে আগ্রহী নয়। নৈশভোজের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি টেবিলে গিয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ছয়জন নেতা বক্তব্য রাখেন।
নৈশভোজে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, বিএনপির সঙ্গে জোট শরিকদের মধ্যে বর্তমানে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যার ফলে অবিশ্বাস ও অনাস্থার জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। একজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, এটি কি কেবল নৈশভোজ নাকি বিদায়ী খাবার? জবাবে প্রধানমন্ত্রী একে ‘ওয়েলকাম ডিনার’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সরকারের কিছু ত্রুটি ও ঘাটতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি শরিকদের সঙ্গে জুলাই ও ৩১ দফা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে এবং চলতে আগ্রহী। যেখানে ঘাটতি রয়েছে, তা শরিকদেরও চিন্তা করতে বলেছেন, বিএনপি এবং সরকারও চিন্তা করবে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি জোট শরিকদের সঙ্গে আবারও বসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি বলেছি, আমি ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চাই না। আপনারা একা চলতে পারলে চলেন। কিন্তু আপনারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে কিন্তু এর দায়ভার আমরা নেবো না। কারণ রাষ্ট্রের জন্য এতো মানুষ জীবন দিয়েছেন, একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনের জন্য।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে তারা যে পজেটিভ উদ্যোগ নিয়েছে, সেজন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, বলেছি, এটা মানুষ ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। তবে রাজনৈতিক দিক থেকে মনে হয় সরকার পিছিয়ে পড়ছে। সংস্কার, ৩১ দফা, জুলাই- এসব নিয়ে সরকার যে সমালোচনার সম্মুখিন হচ্ছে- সরকার এগুলোকে মোকাবিলা করতে পারছে না। সাইফুল হক আরও বলেন, আমি বলেছি, রাজনৈতিক প্রশ্নে আরও মনোযোগ দরকার। কারণ ভুল বার্তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর সারাদেশে আমরা সরকারকে দেখছি, কিন্তু বিএনপিকে দেখছি না। তাহলে মাঠ কি বিরোধীদল এবং জামায়াতের জন্য ছেড়ে দিলেন কি না? যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদলগুলোও আগের মতো মাঠে নেই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ৬ জন বক্তব্যে রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কিছু ত্রুটি এবং ঘাটতি হয়েছে ৷ এজন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :