Facebook Twitter Instagram YouTube

কাঁধের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজুন, সবসময় ম্যাসাজই সমাধান নয়


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ /
কাঁধের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজুন, সবসময় ম্যাসাজই সমাধান নয়

আপনার কাঁধ বা বাহুর চারপাশে যদি দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন বা টান অনুভূত হয়, তবে না বুঝে বারবার ম্যাসাজ করা বা জোরে স্ট্রেচিং করা থেকে বিরত থাকুন। অনেক সময় ব্যথার উৎস কাঁধে না থেকে ঘাড়ের মেরুদণ্ডের সমস্যায় থাকতে পারে। বিশেষ করে ঘাড়ের C5-C6 অঞ্চলের ডিস্কে পরিবর্তন বা নার্ভে চাপের (সারভিক্যাল র‍্যাডিকুলোপ্যাথি) কারণে এই ব্যথা কাঁধ ও বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘাড় থেকে বের হওয়া স্নায়ুগুলো কাঁধ ও হাতের নড়াচড়া ও অনুভূতির সংকেত বহন করে, তাই ঘাড়ের কোনো নার্ভে জ্বালা তৈরি হলে মস্তিষ্ক সেই ব্যথাকে কাঁধের ব্যথা হিসেবে শনাক্ত করতে পারে।

দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে ঝুঁকে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা বা একই অবস্থানে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মধ্যবর্তী ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কগুলো চাপ শোষণে সাহায্য করে, কিন্তু বয়স বা ভুল অঙ্গভঙ্গির কারণে ডিস্ক বালজিং বা ডিজেনারেশন হতে পারে। এতে নার্ভ বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে নার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়, যা থেকে বাহুতে জ্বালাপোড়া, অবশভাব বা হাতের শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সব ক্ষেত্রে কাঁধে ম্যাসাজ করা কার্যকর নয়। যদি ব্যথার উৎস ঘাড়ের নার্ভ হয়, তবে শুধুমাত্র কাঁধে ম্যাসাজ গান ব্যবহার বা জোরালো স্ট্রেচিং করলে সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং ভুল ব্যায়ামের কারণে উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নার্ভে ইরিটেশন থাকলে অতিরিক্ত স্ট্রেচিং এড়িয়ে চলাই ভালো।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, ব্যথার প্রকৃত উৎস নির্ণয় করুন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের মাধ্যমে আপনার অঙ্গভঙ্গি, ঘাড়ের নড়াচড়া ও পেশির শক্তির মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, প্রয়োজনে এক্স-রে বা এমআরআই করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ঘাড় ও কাঁধের সঠিক অঙ্গভঙ্গি বা পোশ্চার বজায় রাখুন। দীর্ঘ সময় মাথা ঝুঁকিয়ে কাজ করবেন না, স্ক্রিন চোখের উচ্চতায় রাখুন এবং কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে জেন্টল নিউরাল মোবিলাইজেশন, নার্ভ গ্লাইডিং এবং ডিপ নেক ফ্লেক্সর স্ট্রেংদেনিংয়ের মতো নির্দিষ্ট ব্যায়াম করুন।

তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। যেমন—হাতের শক্তি ক্রমাগত কমে যাওয়া, আঙুলে অবশভাব, তীব্র ঘাড় ব্যথা, হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা, হাত-পায়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা মূত্র-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন, ব্যথার জায়গায় নয়, ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। এই তথ্যগুলো ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট ডা. এম ইয়াছিন আলীর পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুযায়ী X-ray বা MRI প্রয়োজন হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh