Facebook Twitter Instagram YouTube

মীর জাফরের শেষ জীবন: বিশ্বাসঘাতকতার গ্লানি ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ /
মীর জাফরের শেষ জীবন: বিশ্বাসঘাতকতার গ্লানি ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু

বাংলার ইতিহাসের পাতায় বিশ্বাসঘাতকতার এক জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন সৈয়দ মীর জাফর আলী খান। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ও লর্ড ক্লাইভের সহায়তায় তিনি সিংহাসনে বসলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। ১৭৬৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। তবে তার এই মৃত্যু ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং যন্ত্রণাময়।

জীবনের শেষ দিনগুলোতে মীর জাফর মারাত্মক কুষ্ঠরোগে (Lepersy) আক্রান্ত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের কারণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছিল, যা তাকে অসহ্য শারীরিক কষ্টের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। দৈহিক যন্ত্রণার পাশাপাশি তীব্র মানসিক গ্লানি তাকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খেত। ব্রিটিশদের পুতুল নবাব হিসেবে ক্ষমতায় বসলেও তিনি কখনোই শান্তিতে রাজ্য পরিচালনা করতে পারেননি। একদিকে ইংরেজদের সীমাহীন অর্থের দাবি, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের ঘৃণা ও অবজ্ঞা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

প্রচলিত লোকগাঁথা ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, শারীরিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা মুক্তির আশায় তিনি মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত কিরীটেশ্বরী মন্দির থেকে চরণামৃত আনিয়ে পান করেছিলেন। কিন্তু এই প্রচেষ্টাতেও তার শেষ রক্ষা হয়নি। চরম ক্ষমতা ও বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি কেবল মানুষের ঘৃণা কুড়িয়েছেন। মৃত্যুর পর তাকে মুর্শিদাবাদের জাফরাগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হয়, যা পরবর্তীতে মীর জাফরের পরিবারের সমাধিস্থল হিসেবে পরিচিতি পায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh