Facebook Twitter Instagram YouTube

তাহাজ্জুদের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়ার ৭টি আমল


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ /
তাহাজ্জুদের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়ার ৭টি আমল

নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। এই নামাজ শেষ রাতে বা চতুর্থ প্রহরে আদায় করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বান্দার ডাকে সাড়া দেন, প্রার্থনা কবুল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে ক্ষমা করে দেন (বোখারি: ১১৪৫)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের নামাজ কখনও ছেড়ো না, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) তা কখনও ছাড়েননি। অসুস্থতা বা দুর্বলতা বোধ করলে তিনি বসে এই নামাজ আদায় করতেন (আবু দাউদ: ১৩০৯)।

অনেকে তাহাজ্জুদ আদায়ের চেষ্টা করেও ঘুমের কারণে উঠতে পারেন না। এমন সাতটি আমল রয়েছে যা বাস্তবায়ন করলে তাহাজ্জুদের নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। আমলগুলো হলো:

প্রথমত, জামাতের সঙ্গে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন পূর্ণ রাত নফল বা তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করল (আবু দাউদ: ৫৫৫)।

দ্বিতীয়ত, রাতে পবিত্র কোরআনের ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে রাতে ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করবে, তার জন্য পুরো রাত ইবাদাতে কাটানোর সওয়াব লেখা হবে (মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯৫৮)।

তৃতীয়ত, তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমাতে যায় এবং ঘুমের কারণে জাগতে না পেরে ভোর হয়ে যায়, তার জন্য নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব লেখা হবে এবং তার ঘুম আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সদকাস্বরূপ হবে (নাসায়ি: ১৭৮৭)।

চতুর্থত, ইমামের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে তারাবির নামাজ আদায় করা। আবু জর গিফারি (রা.)-এর প্রশ্নের উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায় করে, তাহলে তাকে পুরো রাত নামাজ আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হবে (আবু দাউদ: ১৩৭৫)। অধিকাংশ ইসলামি স্কলারের মতে, এখানে নামাজ বলতে রমজানের তারাবির নামাজকে বোঝানো হয়েছে (মিরকাতুল মাফাতিন, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩১৮)।

পঞ্চমত, বিধবা ও মিসকিনদের সহযোগিতা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিধবা ও মিসকিনের অভাব দূর করতে সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা ওই ব্যক্তির মতো সওয়াব পাবে, যে রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং দিনে রোজা রাখে (বোখারি: ৫৩৫৩)।

ষষ্ঠত, যথাযথ আদব ও সুন্নত মেনে জুমার নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, সকাল সকাল হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং অনর্থক কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, সে মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর রোজা রাখা এবং রাতভর তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার সওয়াব পাবে (আবু দাউদ: ৩৪৫)।

সপ্তমত, আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের জন্য পাহারাদারি করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক দিন ও এক রাত আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস ধরে রোজা রাখা এবং রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার চেয়েও শ্রেষ্ঠ (মুসলিম: ১৯১৩)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh