Facebook Twitter Instagram YouTube

নতুন মডেলে সফল গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস, সাশ্রয়ী আয়োজনের নজির


প্রকাশের সময় : আগস্ট ৩, ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ণ /
নতুন মডেলে সফল গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস, সাশ্রয়ী আয়োজনের নজির

মাত্র ১৮ মাসের সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতিতে সম্পন্ন হওয়া গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোর জন্য একটি নতুন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে গেমসের এই সাফল্যকে টেকসই ও কার্যকর আয়োজনের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নতুন কোনো স্টেডিয়াম নির্মাণ না করে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

এবারের আসরে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ ১০টি ক্রীড়া এবং ছয়টি প্যারা ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছেন। মোট ২১৫টি পদক ইভেন্টে ১ হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণ করা হয়েছে। গেমস চলাকালীন ভেন্যু, লাইভ সাইট এবং গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল মিলিয়ে ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমস সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রায় ৫০ কোটি ভিউ হয়েছে এবং চার হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন।

গ্লাসগো ২০২৬-এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্যারা ক্রীড়ার সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয়টি প্যারা ডিসিপ্লিনে ৪৭টি পদক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি গেমসের প্রথম স্বর্ণপদকটিও আসে একটি প্যারা ইভেন্ট থেকে, যেখানে ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েন।

পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখতে আয়োজকরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিযোগিতার সব ভেন্যু আট মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং ভেন্যুগুলোতে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। গেমসের ৭১ শতাংশ পরিবহন ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই ছিল সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক। এছাড়া খাবারের মেন্যুর ৫৯ শতাংশ ছিল নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক এবং অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশেরও বেশি পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। ভেন্যুর ব্যানার তৈরিতে ৯৯ হাজার ৪০১টি পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয়েছে। কিংস ব্যাটন রিলের মাধ্যমে ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১৪ হাজার ৩০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছেন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্লাসগো ২০২৬-এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬২ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড। ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসের ৫৪৩ মিলিয়ন এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসের ৬৮০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের তুলনায় এটি অনেক কম। গ্লাসগো ২০২৬-এর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি জানান, এই গেমস প্রমাণ করেছে যে নতুন চিন্তাধারায় বড় আন্তর্জাতিক আসরও কম খরচে সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব। কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলিয়ার বলেন, গ্লাসগো ২০২৬ ভবিষ্যতের গেমসের জন্য একটি নমনীয়, যৌথ ও টেকসই ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশকে আয়োজক হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh